Sukur Ali

 

মহামারির এই দুর্দিনে তিন লক্ষ টাকা ঋণ পেয়ে
মোঃ শুকুর আলী ব্র্যাকের কাছে কৃতজ্ঞ।

 
 
 
 

দিশেহারা শুকুর আলী চোখের সামনে দেখেছেন, চাহিদা মতো জিনিস না পেয়ে ক্রেতারা পাশের দোকান থেকে জিনিস কিনছেন। তার চেনা-পরিচিত কাস্টমারও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

নাটোরের মুলাডুলি এলাকার বাসিন্দা তিনি। পেশায় একজন দক্ষ মুদি ব্যবসায়ী। কোভিড-১৯ এর কারণে গত মার্চ মাস থেকে তিনি সম্মুখীন হোন এক কঠিন পরীক্ষার। রোগের ভয় তো আছেই, সেইসঙ্গে দোকানের ক্রেতা ও মূলধন কমে যাওয়া যেন তাকে অথৈ সাগরে ফেলে দেয়। ব্যাবসা করতে গেলে টাকার লেনদেন থাকা চাই। হাতে টাকা না থাকলে দোকানে মালপত্র উঠানো যায় না, আবার দোকানে মালামাল না থাকলে ক্রেতা আসে না, বিক্রি কমে যায়।

সারা দেশে তখন লকডাউন চলছিল। এর মধ্যে বিক্রির চাহিদা বেড়েছিল কিন্তু টাকার অভাবে তিনি দোকানে জিনিস তুলতে পারছিলেন না। সবাই বিপদে, কাজেই কার কখন টাকার দরকার হয় এই ভাবনা থেকে আত্মীয়স্বজনরাও ধার দিতে চাননি। এমনকি মহাজনেরাও এই মহামারির মধ্যে বাকি মালামাল দিতে নারাজ। একজন ব্যবসায়ীর জন্য এ ভীষণ বিপদ!

একবার ক্রেতারা ফিরে যেতে শুরু করলে সেই ব্যাবসা চালু হতে অনেক সময় লাগে। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে শুকুর আলী ব্র্যাকের কাছেই সাহায্য চাইলেন। তিনি আগে থেকেই ব্র্যাকের সদস্য। তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানকে সচল রাখতে ব্র্যাক আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ায়। গত মে মাসে তাকে তিন লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। এই টাকা পেয়ে তিনি আবার দোকানের জন্য মুদি মালামাল ক্রয় করেন।

অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার ব্যাবসা আগের চেয়ে ভালো হতে থাকে । আগে তার প্রতিদিন বিক্রয় হতো সাত থেকে আট হাজার টাকা । বর্তমানে প্রতিদিন বিক্রয় হয় বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা। দোকানের সুনাম আবার ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন তিনি।

নিজের ব্যাবসার ভালোমন্দের কথা বলতে গিয়ে ব্র্যাকের সহযোগিতার কথা বলতে মোটেও দ্বিধা করেন না তিনি।