Minara

 

“হঠাৎ মার্চের শেষ সপ্তাহে ভীষণ কমে আসে কাপড় বেচাকেনা, মূলধনের বড়ো অংশ বাকি পড়ে যায় পাইকারদের কাছে। এরপর করোনার কারণে লকডাউন এলো, হলো আমাদের সর্বনাশ।”

 
 
 
 

সোনারগাঁর শ্রীনিবাসদী গ্রামের মিনারা বেগম কথাগুলো বলছিলেন। তিনি ব্র্যাকের সদস্য। বড়ো কোনো ব্যাবসা নয়, কিন্তু তার স্বামীর চলছিল ভালোই। মেয়ের আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলেকে নিয়ে এখন চারজনের সংসার।

বিশেষ করে যখন রোজগার বন্ধ, এরকম সময়ে সংসার চালানো একটি কঠিন লড়াই। হাতে যা টাকা-পয়সা ছিল তা দিয়ে কোনোরকমে এপ্রিল মাস পার হলো। এরপর থেকেই শুরু হলো মিনারার ধারদেনার পালা। কিন্তু সেখানেও বিধি বাম। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সামর্থ্যবানরাও ধার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এভাবে আর কতদিন?

ব্র্যাককর্মী আজিজ মাঝেমধ্যে ফোন করে মিনারা ও তার পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। “আমরা কেমন আছি? কীভাবে চলছে? এসব কথা জিজ্ঞেস করতেন। আমরা তখনও জানতাম না যে, ব্র্যাক অফিস আবার চালু হয়েছে। তিনিই জানালেন। ঋণ ও কিস্তির বিষয়ে ভালোভাবে জানতে একদিন অফিসে গেলাম। ঐদিনই আগের ঋণের আধা কিস্তি পরিশোধ করি। এর একদিন বাদেই ৭০০০০ টাকা ঋণ নিই। এরমধ্যে লকডাউন কিছুটা শিথিল হলে ছেলের বাবা আবারও কাপড়ের ব্যাবসা শুরু করে।”

ঋণের টাকায় ব্যাবসা আবার শুরু করেন মিনারার স্বামী। ব্যাবসা আগের মতো না হলেও একেবারে মন্দ নয়। এই দুঃসময়ে ঋণটা পেয়েছিলেন বলে মিনারা বারবার ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।