Rabaya

 

“ব্র্যাক আমাকে সঞ্চয় ফেরত দিয়ে দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে।”

 
 
 
 

চারিদিকে প্রতিকূলতা, সারা বিশ্ব করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত। সচেতনতামূলক নানা কাজে অংশ নিচ্ছেন ব্র্যাককর্মীরা। ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের কর্মীরাও মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন। এখন বিপদ, তাই কর্মসূচির লড়াকু সৈনিকেরা এগিয়ে গেছেন প্রতিরোধের শপথ নিয়ে।

মাইক্রোফাইন্যান্সের সদস্যদের সঞ্চয় থেকে কিছু অংশ প্রয়োজনে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মীরা খোঁজ করেন এমন সদস্যদের যারা অত্যন্ত অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন।

ব্র্যাকের একজন সদস্য রাবেয়া আক্তার। তিনি সোনারগাঁর আড়াইহাজার গ্রামের বাসিন্দা।

“আমার দুই ছেলেমেয়ে। স্বামী সিএনজি অটোরিকশা চালায়। তার একার উপার্জনে খেয়ে-পরে ভালো থাকা যাচ্ছিল না। তাই আমি ব্র্যাক অফিস থেকে ঋণ নিয়ে গাভি কিনে আনি। গাভির দুধ বিক্রি করে স্বামী সন্তান নিয়ে মোটামুটি সুখী ছিলাম।

মার্চ মাসের শুরুতে করোনাভাইরাসের যখন প্রকোপ বাড়ে, তখন আমার স্বামীর আয়-উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দুধ কেনার জন্যও কেউ আমার কাছে আসে না। আমি সমস্যায় পড়ে যাই। ঠিকমতো খাবার খরচই জোগাড় করতে পারছিলাম না। অল্প জমানো টাকা দিয়ে কিছু দিন কোনোরকমে কাটাই। সামনে আসে ঈদ। ঘরের খাবার ফুরিয়ে আসছে।

একদিন ব্র্যাকের মারুফা আপা আমাকে ফোন করেন। সব শুনে বলেন, চাইলে আমি আমার সঞ্চয় ভাঙাতে পারি। আরও বলেন, আমার মতো যারা কষ্টে আছেন তাদের কথা ভেবে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি রাজি হই। আমার বিকাশ নম্বরে ২০০০/-টাকা পাঠানো হয়। ব্র্যাকে আমার ৫০০০০/- টাকা ঋণ চলমান আছে। তারপরও প্রয়োজনের সময় আমার সঞ্চয় আমি পেলাম, এই কথা সারাজীবন মনে থাকবে।”