Surab

 

“ছেলেকে এত কষ্ট করে পড়ালেখা শেখালাম, এখন সে কোনো কাজ পাবে না এটা আমি ভাবতেও পারছিলাম না।“

 
 
 
 

টাকা পেয়ে তিনি ছেলের জন্য একটি কাপড়ের দোকান চালু করেন। সন্তানের বেকারত্ব দূর হওয়ায় তার মুখে হাসি ফোটে।

সুরাব শেখের ছেলে শিক্ষিত। তার কর্মসংস্থানের জন্য নানা উপায় খুঁজছিলেন। ইচ্ছে থাকলেও টাকার অভাবে কোনো ব্যবসা শুরু করা যাচ্ছিল না। আর ঘাতক মহামারি যখন এদেশে এলো, তখন সঙ্গে করে নিয়ে এলো অনিশ্চয়তা, ভয় আর স্থবিরতা।

ঢাকার আশুলিয়ার বাসিন্দা মোঃ সুরাব শেখ। জিরাবো এলাকার ঘোষবাগ গ্রামে থাকেন। তিনি জিরাবোতে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি থেকে ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা ঋণ নিয়ে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন এবং নিয়মিতভাবে পনেরোটি কিস্তি পরিশোধ করেন।

মহামারির আঘাতে এসময় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গোটা দেশের অর্থনীতি, বন্ধ হয়ে যায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সুরাব শেখ এবার ছেলেকে নিয়ে খানিক চিন্তিত হয়ে পড়েন। নতুন করে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে ঋণ দিয়ে ঝুঁকি নিতে রাজি হচ্ছে না কেউ।

ব্র্যাক জিরাবো অফিসে কর্মরত ক্রেডিট অফিসার মোঃ এমদাদুল হক, সুরাব শেখের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ। সুরাব শেখ তার আর্থিক সংকট এবং দুশ্চিন্তার কথা এমদাদুলকে বলেন। সময়টা প্রতিকূল, তবু অপ্রত্যাশিত এই বাস্তবতার কাছে ছেলেকে নিয়ে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে চান না সুরাব শেখ। এমদাদুল তাকে আশ্বস্ত করেন এবং সাহস জোগান।

“আপনি চিন্তা করবেন না, আপনাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবে ব্র্যাক।”

এমদাদুল তার এলাকা ব্যবস্থাপকের অনুমতি নিয়ে ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা ঋণের ব্যবস্থা করেন। চারিদিকে যখন চরম অর্থনৈতিক সংকট, তখন সুরাব শেখ ৭,০০,০০০/-(সাত লক্ষ) টাকা ঋণ পেয়ে বারবার ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন। দমে যাওয়ার মানুষ তিনি নন। তাই বলে বিপদের দিনে এমন বন্ধু পাশে পাবেন, এটা ছিল তার প্রত্যাশার বাইরে!