Tajnahar

 

মহামারির দুঃসময়ের ঝাপটা এসে লাগল তাজনাহারের প্রায় গুছিয়ে ওঠা সংসারে।

 
 
 
 

দোকানদারি ভালোই চলছিল, সংসারের সব খরচ মিটিয়ে কিছু কিছু টাকা সঞ্চয় হচ্ছিল। এরমধ্যে দেশে আঘাত হানল করোনাভাইরাস। দোকানে বিক্রি গেল কমে, এখন তো সংসার চালনোই কষ্টকর। একদিকে ব্যবসার পুঁজি শেষ, অন্যদিকে পরিবার নিয়ে ঘরের বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো।

ফেনী জেলার সেনবাগ সদর এলাকার বাসিন্দা তাজনাহার বেগমের কথা হচ্ছিল। মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির একজন সদস্য। গত ১৭ বছর যাবৎ ব্যবসার নানা প্রয়োজনে এখান থেকেই ঋণ নিচ্ছেন। সেইসঙ্গে সঞ্চয়ও করছেন এখানে। এছাড়া আরও ভালোভাবে ব্যবসা করার জন্য কী করা যেতে পারে, তার পরামর্শ অথবা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যাপারে তো ব্র্র্যাকের ভাইদের কাছ থেকেই সাহায্য নেন।

তাজনাহারের স্বামী মোঃ আকরাম উল্লাহ একটি মুদি দোকান চালান। গতবছর ব্র্যাক থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে বিনিয়োগ করেছেন। এরপর ধীরে ধীরে দোকানে বেড়েছে লেনদেন, ক্রেতা এবং মজুদ।

তাজনাহারদের থাকার ঘরটি অনেক পুরানো এবং ছোটো। ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকতে কষ্ট হয়। তাই এই বছরের প্রথমদিকে দোকানের লাভ আর জমানো টাকা দিয়ে একটি ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন। টাকার অভাবে অর্ধেক হয়ে থেমে রইল সেই কাজও।

ফেব্রুয়ারি মাসে তার ঋণ পরিশোধ হয়। কিন্তু মার্চ মাস থেকে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির কার্যক্রম বন্ধ, তাই নতুন ঋণ পাবার সুযোগ নেই। সংসারের খরচ জোগাতে অন্যদের কাছে ধার চেয়েও খালি হাতে ফিরতে হলো।

অবশেষে মে মাসে যখন সীমিত আকারে ঋণ কার্যক্রম শুরু হয় তখন তাজনাহার ব্র্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। এই দুঃসময়ে তাকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। তিনি ঘর ঠিকঠাক করার কাজে কিছু টাকা খরচ করলেন। বাকিটা দিয়ে দোকানে মালামাল তুললেন। এখন নতুন ঘরে থাকার মতো ব্যবস্থা হয়েছে, দোকান থেকেও হচ্ছে উপার্জন।

মহামারির এই বিপদের দিনে আরও একবার পুরানো বন্ধুর মতো ব্র্যাককে পাশে পেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের জন্য তাজনাহার অপার ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন। ঋণের টাকা পেয়ে তাই তিনি ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।